Wednesday, July 22, 2026
PrimeBulletin

World

যুক্তরাষ্ট্রে নয়া উদ্বেগ, রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়তে পারে ৬৫ লাখ পরিবারের শিশুরা

যুক্তরাষ্ট্রে নয়া উদ্বেগ, রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়তে পারে ৬৫ লাখ পরিবারের শিশুরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নীতির কারণে দেশটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই নীতি কার্যকর হলে বহু অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। খবর সিএনএনের।

দীর্ঘ ২৬ বছর আগে কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ‘পিলার’ (ছদ্মনাম) বর্তমানে একজন প্যারালিগ্যাল হিসেবে কাজ করছেন এবং ফ্লোরিডায় নিজের বাড়িও কিনেছেন। তবে নতুন আইনি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাকে ‘অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী’ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে তার সন্তানেরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মালেও নাগরিকত্ব পাবে না-এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যেখানে বলা হয়েছে-‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং এর অধিক্ষেত্রের আওতাভুক্ত সকল ব্যক্তি মার্কিন নাগরিক’। ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা যুক্তি দিচ্ছেন, ‘অধিক্ষেত্রের আওতাভুক্ত’ হওয়ার অর্থ হলো রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি আনুগত্য থাকা, যা অবৈধ বা অস্থায়ীভাবে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই ব্যাখ্যা সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মানবাধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল সোসাইটিস ইউনিয়ন-এর আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ‘ডোমিসাইল’ বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অভিপ্রায়-এ ধরনের ধারণা সংবিধানের কোথাও উল্লেখ নেই, বরং এটি একটি অস্পষ্ট ও ব্যক্তিনির্ভর মানদণ্ড।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি কার্যকর হলে প্রায় ৬৫ লাখ বৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীর সন্তানের নাগরিকত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অনেকেই বছরের পর বছর ধরে আশ্রয় আবেদন বা মানবিক কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

এদিকে ইউক্রেন থেকে আগত ‘লিলি’ (ছদ্মনাম) নামের এক নারী জানান, নিজ দেশে ফিরে যাওয়া তার জন্য ‘মৃত্যুদণ্ডের সমান’। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সেখানেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তার মতে, এই নীতি শুধু আইনি প্রশ্ন নয়, বরং ‘নিরাপত্তা, পরিচয় এবং ভবিষ্যতের অধিকার’-এর সঙ্গে জড়িত।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে শুনানি চলমান রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে লাখো অভিবাসী পরিবারের ভবিষ্যৎ। যদি ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুমোদন পায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে এক বড় পরিবর্তন আসতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বহু প্রজন্মের ওপর।

More

মার্কিন চাপের মধ্যেই লেবাননে স্থায়ী সেনাপোস্ট করছে ইসরায়েল

World

মার্কিন চাপের মধ্যেই লেবাননে স্থায়ী সেনাপোস্ট করছে ইসরায়েল

লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জোর দাবির মধ্যেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে স্থায়ী সেনাঘাঁটি স...

2026-07-17 11:54

লেবানন-ইসরাইল বৈঠক শেষ; কয়েক দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার শুরু হতে পারে

World

লেবানন-ইসরাইল বৈঠক শেষ; কয়েক দিনের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার শুরু হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে রোমে দুই দিনের আলোচনা শেষ হয়েছে আজ (বুধবার, ১৪ জুলাই)। এক মার্কিন কর...

2026-07-15 22:58

যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক অনিশ্চিত

World

যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক অনিশ্চিত

আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তার সফরের বিষয়টি বুধবার (১৫ জুলা...

2026-07-15 22:37

ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি, ইসরায়েলি সেনার ৫ বছরের কারাদণ্ড

World

ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি, ইসরায়েলি সেনার ৫ বছরের কারাদণ্ড

ইরানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির গুরুতর অপরাধে এক ইসরায়েলি সেনাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি সামরিক আদালত। ইসরা...

2026-07-15 18:04