Tuesday, September 22, 2026
PrimeBulletin

Bangladesh

মঙ্গলবার বসত ‘কিচেন কেবিনেট’, সেখানেই হতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত: তৌহিদ

মঙ্গলবার বসত ‘কিচেন কেবিনেট’, সেখানেই হতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত: তৌহিদ

অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ নিত বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার ওই গ্রুপের বৈঠক হতো। একই সঙ্গে নিজের মন্ত্রণালয়ে অন্য উপদেষ্টাদের প্রভাব থাকায় তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে তার পদত্যাগ গৃহীত হয়নি।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা সীমিত হলেও তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হতো, কারণ উচ্চপর্যায়েও সেগুলো গুরুত্ব পেত। তিনি বলেন, ‘আমি সরে আসার চিন্তা তিনবার করেছি। তারা অনুরোধ করেছে, এতে সরকারের জন্য খুবই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ সক্রিয় ছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব ঘটনাতেই কোনো না কোনোভাবে ডিপ স্টেট জড়িত থাকে। তবে তারা সাধারণত স্রোতের বিপরীতে যায় না; বরং পরে এসে পরিস্থিতিকে নিজেদের মতো প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।

নিজের প্রত্যাশার বড় একটি অংশ পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, একবার যমুনায় ‘কিচেন কেবিনেট’-এর একটি বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে পরে জানতে পারেন, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক হতো। সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা তার কানেও আসত, তবে এমন একটি নিয়মিত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গ্রুপ আছে— তা আগে জানা ছিল না।

ভোটের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করে, তাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। তার ভাষ্য, এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাজ করেছেন। তিনি মনে করেন, বাধ্যবাধকতা না থাকলে বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত হতো।

দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে চিঠি পাঠানো হলেও সেটি কার্যকর হবে না— এমন ধারণা আগে থেকেই ছিল বলে জানান তিনি। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে তৌহিদ বলেন, দলটি পুরোপুরি রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন না। তার মতে, মানুষের রাজনৈতিক স্মৃতি দীর্ঘ নয় এবং আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারে।

বর্তমান বিএনপি সরকার নিয়ে এখনই মূল্যায়ন করতে চান না এই কূটনীতিক। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই তারেক রহমানের বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

More