Saturday, September 19, 2026
PrimeBulletin

Bangladesh

জ্বালানি সংকটে আয় কমে অর্ধেকে, বিপাকে রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি চালকরা

জ্বালানি সংকটে আয় কমে অর্ধেকে, বিপাকে রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি চালকরা

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার পরিবহন ও আয়ের খাতে। পেট্রোলের সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক পাম্পে বিক্রি বন্ধ থাকছে, আর যেগুলো খোলা আছে সেখানে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়ায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই সংকট চলমান রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রাইড শেয়ারিং ও খাবার ডেলিভারি সেবায় যুক্ত মোটরসাইকেল চালকরা।

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার একটি পাম্পে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। অনেক চালক জানিয়েছেন, ৪–৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছেন না তারা। এতে দৈনন্দিন আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

ফুডপান্ডার ডেলিভারি কর্মী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আগে দুই শিফটে কাজ করে দিনে ২ হাজার টাকার বেশি আয় হতো, এখন তা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় তেল সংগ্রহে ব্যয় হওয়ায় কাজের সময়ও কমে গেছে।

রাইড শেয়ারিং চালকরা বলছেন, একেক পাম্পে মাত্র ৩০০–৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে সারাদিন কাজ চালানো সম্ভব নয়। ফলে বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে।

মিরপুরের এক চালক নেহাল অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অল্প পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদা পূরণ করছে না।

অন্যদিকে ফুড ডেলিভারি ও রাইড শেয়ারিং চালকদের পাশাপাশি সাধারণ চাকরিজীবীরাও ছুটির দিনে পাম্পে গিয়ে তেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সাভার ও মিরপুর থেকে আসা একাধিক ভোক্তা জানান, নিজ এলাকায় পাম্প বন্ধ থাকায় ঢাকায় এসে তেল নিতে হচ্ছে, তবে এখানেও একই অবস্থা।

পাম্প কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিপো থেকে সরবরাহ সীমিত হওয়ায় বরাদ্দ অনুযায়ী তেল বিতরণ করা হচ্ছে।

চালকদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তাদের আয়ের সংকট আরও গভীর হবে এবং দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

More