Wednesday, September 23, 2026
PrimeBulletin

Bangladesh

ইউনিফর্ম বদলেই কি বদলাবে ভাবমূর্তি-প্রশ্নে পুলিশ সংস্কার

ইউনিফর্ম বদলেই কি বদলাবে ভাবমূর্তি-প্রশ্নে পুলিশ সংস্কার

চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে পোশাক পরিবর্তন করে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে নতুন ইউনিফর্ম নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা থামেনি। সোয়া দুই লাখ সদস্যের জন্য দুই থেকে তিন সেট পোশাক তৈরিতে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা খরচের বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। বাহিনীর ভেতর থেকেও নতুন পোশাক নিয়ে অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ইউনিফর্ম পরিবর্তনের পরিবর্তে কাঠামোগত সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিই হওয়া উচিত।

পুলিশ একটি নাম, যা নানা সময়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে পুলিশ। দাবি ওঠে পুলিশ সংস্কারের। তার অংশ হিসেবে পোশাক পরিবর্তনের অনুমোদন দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

দেশ স্বাধীনের পর ২০০৪ সালে পুলিশের ইউনিফর্মে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন করা হয়। এরপর ২০২০ সালেও পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি ফের আলোচনা আসে। এরপরের বছর বেশ কয়েকটি পোশাকের ট্রায়াল হলেও পায়নি পুলিশ।

সবশেষ গেল ১৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে আসে পুলিশ বাহিনী। তবে নতুন পোশাক চালুর পর থেকেই এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সোয়া দুই লক্ষাধিক সদস্যের জন্য দুই থেকে তিন সেট ইউনিফর্ম তৈরি খরচ ধরা হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা। প্রতিটি সেটে কাপড়, সেলাই ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে গড়ে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।

এদিকে, সরকার পরিবর্তনের পর বাহিনীর ভেতরেই শোনা যাচ্ছে ভিন্ন সুর। অনেক পুলিশ সদস্যই নতুন পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না এবং আগের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। তাদের দাবি, সিদ্ধান্তটি ছিলো চাপিয়ে দেয়া।

ঢাকা মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার তালেবুর রহমান জানান, সরকার যে পোশাক নির্ধারণ করবে, পুলিশ তা মেনেই দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যেকোনো ধরনের সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। সেটি মেনে নিয়েই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব।’

পুলিশ প্রধান জানান, পুলিশের মনোবল এখন অনেকটা ভালো অবস্থায় রয়েছে। পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি। বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।

নবনিযুক্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘সরকার সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে। এটি নিয়ে তারা পর্যালোচনা করছেন। ওনাদের থেকেই আপনারা ফাইনাল ব্রিফিং পাবেন।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ অযৌক্তিক। একইসঙ্গে শুধু পোশাক নয়- দরকার পুলিশ বাহিনীর প্রকৃত সংস্কার।

বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি ড. এম আকবর আলী বলেন, ‘পুলিশের পোশাক পরিবর্তর জরুরি ছিলো না। জরুরি ছিলো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য যা যা করণীয় সেদিকে নজর দেয়া। পোশাকের ভেতরে যে মানুষ, যে পুলিশের কাজ করে তাকে গড়ে তোলাই প্রয়োজন।’

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—শুধু ইউনিফর্ম বদলালেই কি বদলাবে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা? নাকি প্রয়োজন আরও গভীর সংস্কার—জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্ব এবং জনবান্ধব মনোভাবের? এখন দেখার বিষয়, এই পরিবর্তন কতটা বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায়

More