Tuesday, September 22, 2026
PrimeBulletin

Bangladesh

হেলিকপ্টার কোম্পানির মালিক হতে সাবেক বিমান উপদেষ্টার তুঘলকি কাণ্ড!

হেলিকপ্টার কোম্পানির মালিক হতে সাবেক বিমান উপদেষ্টার তুঘলকি কাণ্ড!

নিয়ম ভেঙে বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক বেসামরিক বিমান উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বিরুদ্ধে। বেক্সিমকো এভিয়েশনকে তিনি সুকৌশলে বানিয়েছেন আকিজ-বশির এভিয়েশন। আর বরাদ্দের আগেই, দখল করেন প্রতিষ্ঠানটির হ্যাঙ্গার। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ভিডিও প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এক প্রতিষ্ঠানের হয়ে এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট (এওসি) যিনি সারেন্ডার করেছেন, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি আবার অন্য প্রতিষ্ঠানের হয়ে সেই সার্টিফিকেটের আবেদন করেছেন। এমন লঙ্কাকাণ্ড হয়েছে বেক্সিমকো এভিয়েশন থেকে আকিজ-বশির এভিয়েশন রূপান্তরে। আর এই লঙ্কাকাণ্ডের নায়ক বেক্সিমকো এভিয়েশনের সাবেক ও আজিক বশির এভিয়েশনের বর্তমান সিইও ক্যাপ্টেন গুলজার হোসাইন।

জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর সালমান এফ রহমানের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো চাপে পরে বেক্সিমকো এভিয়েশনও। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে সিভিল এভিয়েশনকে চিঠি দেন সিইও গুলজার। তার দাবি, মালিক পক্ষের সিদ্ধান্তেই ওই চিঠি দেন তিনি।

এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, বেক্সিমকোর ব্যাপারে আমাকে এত পরে এগুলো জিজ্ঞেস করা বিব্রতকর। অবশ্যই এটা ম্যানেজেরিয়াল সিদ্ধান্ত ছিল। একজন কর্মচারি হিসেবে আমি এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার রাখি না।

তবে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের দুই পাইলট। বেক্সিমকোর তৎকালীন ডিএফও ক্যাপ্টেন জাহিদুর রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারির দিকে হঠাৎ করেই একটা সিদ্ধান্ত হয়, এই কোম্পানির এলসি ডিসকন্টিনিউ করা হবে। সিইওর পক্ষ থেকে এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আকিজ বশিরের এভিয়েশন একটা কোম্পানি তৈরির ব্যাপারে তাদের একটা এক্টিভিটিজ ছিল।

তৎকালীন সিওও এ বিষয়ে বলেন, উনি চাচ্ছিল আমরা যেন ওখান থেকে রিজাইন দেই। অন্য কোথাও জব নেই। বেক্সিমকো এভিয়েশন ক্লোজ হয়ে গেছে খুব সহজ হতো এওসি পাওয়া। আর উনি যেহেতু উপদেষ্টা ছিলেন উনার জন্য খুব সহজ ছিল এওসি পাওয়াটা।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর নিয়মবহির্ভূতভাবে ডিরেক্টর ফ্লাই অপারেশনসকে না জানিয়েই একটি ভিআইপি ফ্লাইট করেন সিইও ক্যাপ্টেন গুলজার হোসাইন। সেই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন তৎকালীন বাণিজ্য ও পরে বিমান উপদেষ্টা হওয়া শেখ বশিরউদ্দীন।

এই ফ্লাইটের পরেই ঘুরে যায় ঘটনার মোড়। বন্ধ করে দেওয়া হয় বেক্সিমকো এভিয়েশন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল প্রতিষ্ঠানটির শেষ কর্মদিবস। ৪ মার্চ সিইও নিজেই বেক্সিমকো এভিয়েশনের এয়ার অপারেটর সার্টফিকেট ও হ্যাঙ্গার সারেন্ডারের আবেদন করেন। এর দুই সপ্তাহ মধ্যে তিনিই আবার অকিজ বশির এভিয়েশনের পক্ষে এনওসির জন্য আবেদন করেন।

২ জুন ২০২৫ পর্যন্ত হ্যাঙ্গার বেক্সিমকো এভিয়েশনের হ্যাঙ্গার বরাদ্দ থাকলেও মার্চে এসেই হ্যাঙ্গার হয়ে যায় আকিজ বশির অভিয়েশনের অলিখিত অফিস। যদিও তাদের নামে হ্যাঙ্গার বরাদ্ধ হয় আরও তিনমাস পরে ৪ জুন।

অথচ এই বিষয়টি জানে না সিভিল এভিয়েশনও। একই সিইও দুই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করায় সুকৌশলে তারা গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এটি অস্বীকার করেন আকিজ বশির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশিরউদ্দীন।

তিনি বলেন, যে হ্যাঙ্গারে এখন আমাদের এলোকেটেড করা হয়েছে, এটা একসময় বেক্সিমকোর নামে ছিল। এটা কী ক্যান্সেল হয়েছে, না হয়েছে এটা আমার চিন্তার বিষয় না। জানারও বিষয় না। আর বেক্সিমকোর কোনো হেলিকপ্টার আমার হ্যাঙ্গারের মধ্যে নাই।

তবে সত্যতা যাচাইয়ে গেলে দেখা গেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হেলিকপ্টার জোনে তিনটি হেলিকপ্টার আছে। একমধ্যে একটি সচল। সেটি শেখ বশিরউদ্দীনের। এছাড়া আরও দুটি হেলিকপ্টার দেখা যায়। সে দুটির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ধরে দেখা যায়, সেই দুটি বেক্সিমকো এভিয়েশনের।

এছাড়া বেসামরিক বিমান উপদেষ্টা থাকাকালীন বিমানের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন শেখ বশিরউদ্দীন। যাতে তখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এছাড়া অধিনস্ত প্রতিষ্ঠান সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি থেকে হেলিকপ্টার ব্যবসার লাইসেন্স পেতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

More