Saturday, September 19, 2026
PrimeBulletin

Bangladesh

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী

ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল ও সাগরের উত্তাল জোয়ারের কারণে সৃষ্ট চট্টগ্রামের বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী। জেলার সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা কবলিত এলাকা সাতকানিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী।

বন্যাকবলিত সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে বলে আইএসপিআর সূত্রে জানানো হয়েছে। 
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ছাড়াও সন্দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি ছুটির দিনেও সবাইকে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। কোন উপজেলায় কয়টি স্পিডবোট প্রয়োজন এবং কোন এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সেনাবাহিনীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

টানা প্রায় চার দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে পাহাড়ি ঢল ও সাগরের উত্তাল জোয়ারে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু এই উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।

এছাড়াও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে বর্তমানে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা জরুরি ত্রাণ হিসেবে মজুত রয়েছে।
সাতকানিয়ার জন্য এরইমধ্যে ৯ লাখ টাকা ও ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একই কার্যক্রম চলছে। সাতকানিয়ার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চট্টগ্রামের জন্য অতিরিক্ত বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

More